
অনলাইন ডেস্ক: গাজীপুরের শ্রীপুরে বিদ্যালয় ছুটির পর প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা। মুহূর্তে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়লে দুই ঘণ্টা পর অপহরণকারীরা ওই শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেয়।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর পুলিশ অপহরণকারী দলের নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি নকল পিস্তল, দুইটি ওয়াকিটকি ও দুইটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করেছে। অভিযান টের পেয়ে অপহরণকারী দলটির নেতাসহ সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
অপহরণের শিকার শিক্ষার্থীর নাম মো. ফেরদৌস আহমেদ (১৪)। সে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে।
মো. ফেরদৌস ওই ইউনিয়নের ধনুয়া এলাকায় হাজি প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অভিযুক্ত মো. কাওসার আহমেদ (৩০) ওই এলাকার (ধনুয়া) মৃত ইমান আলীর ছেলে। তাৎক্ষণিক তার সহযোগী তিনজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন এমদাদুল হক, নূরুল হক ও মোস্তফা।
ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. হৃদয় জানায়, ছুটি হওয়ার পর শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে প্রধান ফটকের সামনে যেতেই ফেরদৌসকে ৫ থেকে ৬ জন তরুণ ঘিরে ধরে। তাকে মারধরের একপর্যায়ে তুলে নেওয়ার সময় চিৎকার করলে টের পেয়ে ফেরদৌসকে রক্ষার জন্য কয়েকজন শিক্ষক এগিয়ে যান। ওই সময় অপহরণকারী দলটির একজন পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করার ভয় দেখালে শিক্ষকরা সরে যান।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ফেরদৌসের চিৎকারে টের পেয়ে দৌড়ে গিয়ে তাকে রক্ষার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ওই দলে থাকা একজন পিস্তল উঁচিয়ে হুমকি দিয়েছিল, ‘যে সামনে আসবে তাকেই শেষ করে দেব।
এরপর আমরা সরে যাই, পরে গুলির ভয়ে কেউ সামনে এগোয়নি।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুন নাহার বলেন, ‘বিদ্যালয় ছুটির পর প্রধান ফটক থেকে ফেরদৌসকে মারধরের পর তুলে নিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা। পিস্তল উঁচিয়ে গুলির হুমকি দেওয়ায় আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। তাৎক্ষণিক ঘটনাটি স্বজন ও থানা পুলিশকে জানানো হয়।’
ফেরদৌস আহমেদের মামা নাদিম মাহমুদ জানান, ঘটনার পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে অপহরণকারী দলে থাকা সবাইকে চেনা গেছে। ঘটনার দুই ঘণ্টা পর ফেরদৌসকে আহত অবস্থায় তাদের হাতে তুলে দেয় অস্ত্রধারীরা।
নাদিম মাহমুদ আরো জানান, মুক্তির পর তার ভাগ্নেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। কী কারণে তাকে (ফেসদৌস) তুলে নেওয়া হয়েছিল তা এখনো জানতে পারেননি তারা।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশ অভিযুক্ত কাওসার আহমেদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি নকল পিস্তল, দুইটি ওয়াকিটকি ও দুইটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করেছে। অভিযান টের পেয়ে কাওসার আহমেদ পালিয়ে যান। তাকেসহ তার সহযোগীদের আটকের চেষ্টা চলছে।’
মন্তব্য করুন