

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. ছাইদুর রহমানকে ঘিরে শত কোটি টাকার নদী খনন প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কয়েক বছর আগে অনুসন্ধান শুরু করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি।
দুদক ও বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার কংস ও ভোগাই নদীর মোহনগঞ্জ থেকে নালিতাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার নৌপথ খননের জন্য ১৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। তবে প্রকল্প শেষে নদীর কাঙ্ক্ষিত নাব্য ফিরে না আসায় শুরু থেকেই প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্পের প্রাক্কলনে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ড্রেজিং দেখানো হয়েছিল। দরপত্রে যেসব যন্ত্রপাতি ও পদ্ধতিতে কাজ করার কথা উল্লেখ ছিল, বাস্তবে তার অনেক কিছুরই যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বর্ষা শেষে নদীর বিভিন্ন অংশে আগের মতোই পলি জমে থাকতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়। দুদক ইতোমধ্যে প্রকল্পসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্ত শেষ হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, নদী খননের আড়ালে কংস ও ভোগাই নদী থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থের পাশাপাশি বালু বিক্রির অর্থ থেকেও একটি প্রভাবশালী চক্র সুবিধা নিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত বা চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, মো. ছাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগেও পৃথক অনুসন্ধান চলছে। তার স্ত্রী শামিমা আক্তার এবং বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সম্পদের বিষয়েও অনুসন্ধান করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২০ সালে সংশ্লিষ্টদের সম্পদের হিসাব জমা দিতে নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সম্পদ বিবরণী ও জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হলেও দীর্ঘ সময়েও অনুসন্ধানের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, ছাইদুর রহমানের আয়কর নথিতে স্বর্ণ বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয়ের তথ্য উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট রসিদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং কুড়িগ্রামে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব সম্পদের বৈধতা সম্পর্কে এখনো দুদকের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, ছাইদুর রহমান বর্তমানে ড্রেজিং বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে বদলি হয়েছেন। তবে প্রধান প্রকৌশলী পদে তার সম্ভাব্য নিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। এ নিয়ে অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, যার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের অনিয়মের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে, তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হয়েছে কি না, সেটি নয়; বরং প্রকৃতপক্ষে কতটুকু কাজ হয়েছে, কাজের পরিমাপ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বিল অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় কারা দায়িত্বে ছিলেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ ছিল কি না—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. ছাইদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএর জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, "মো. ছাইদুর রহমান বর্তমানে ড্রেজিং বিভাগে নেই। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি আমাদের জানা নেই।"
সম্পাদক: মোঃ হাসান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: ফারহান, নির্বাহী সম্পাদক: মুরাদ হোসেন, বার্তা সম্পাদক: রাসেল গাজী, মোবাইল: 01911110129, 01902279843
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয: ২১, নাছিম চেম্বার, ৩য় তলা, দিলকুশা, মতিঝিল, ঢাকা।
© ২০২৫ জনমুক্তি বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত