জামালপুর সংবাদদাতা: সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) স্থায়ী ঠিকানার সঙ্গে ভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করে জেলা কোটার সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে নিয়োগের সময় তিনি নিজের ঠিকানা হিসেবে ঢাকার দক্ষিণখান থানার মোল্লারটেক এলাকার একটি ঠিকানা ব্যবহার করেন। নিয়োগসংক্রান্ত নথিতে ওই ঠিকানাই উল্লেখ রয়েছে। তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ আছে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারাটিয়া গ্রামের ঠিকানা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আতিকুজ্জামান জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে মেলান্দহ উপজেলায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে দেওয়ানগঞ্জে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে মেলান্দহে কর্মরত রয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ছাত্রজীবনে তিনি স্থানীয় ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আতিকুজ্জামান বলেন, “আমি একসময় ঢাকায় বসবাস করতাম। সে কারণেই ওই ঠিকানা ব্যবহার করেছি।” তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে জামালপুরের স্থায়ী ঠিকানা থাকা সত্ত্বেও নিয়োগের সময় ঢাকার ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। তবে পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জামালপুর জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউসূফ আলী বলেন, সরকারি চাকরি পেতে মিথ্যা তথ্য বা ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ। সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতিসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় ফৌজদারি মামলাও হতে পারে।
অন্যদিকে জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। তদন্তে তথ্য গোপন বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ও প্রশাসনিক তদন্তের ওপরই পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন