
অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রামে নতুন আতঙ্কের নাম মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। সুযোগ পেলেই টার্গেট কোনো ব্যবসায়ীকে ফোনে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করেন। এরপর ভয়ে ওই ব্যবসায়ী তার কাছে টাকা পাঠিয়ে দেন। এভাবে এক মাসে তিন প্রতিষ্ঠানে ফোনে কল করে ডেভিড ইমন অন্তত দেড় কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছেন। বেঁধে দেওয়া সময়ে চাঁদা না দেওয়ায় ডেভিডের নির্দেশে সোমবার চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সেবাদান প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর করা হয়। এরপর নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ডেভিড ইমন। নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না পাওয়ায় চন্দনপুরার ওই প্রতিষ্ঠানে তার নির্দেশে অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসী হামলা চালান। হামালা ও ভাঙচুরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় ডেভিড ইমনের ইশারায় দুই বছরেই অন্তত ৭ জন খুন হয়েছেন।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ভেডিড ইমন নামে কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষ চিনত না। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সদস্য হিসাবে অপরাধজগতে পরিচিতি পান ইমন। তার বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরে। তার বাবার নাম মো. মুসা। সাধারণ কৃষকের ঘরে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। লেখাপড়াও তেমন করেননি। অল্প বয়সে কিশোর গ্যাং-এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সাজ্জাদের গ্রুপে যোগ দিয়ে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সহজেই তার (সাজ্জাদ) নজরে আসেন। বর্তমানে ইমন চট্টগ্রামে সাজ্জাদ আলী খানের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে কাজ করছেন। সাজ্জাদ আলীর গ্রুপে অর্ধশতাধিক তরুণ রয়েছে।
নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলায় এই চক্রের প্রভাব বেশি। এসব এলাকায় তারা নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুই ব্যক্তির একজন ডেভিড ইমন। এর আগে ‘ছোট সাজ্জাদ’ ওরফে সাজ্জাদ হোসেন এই গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন। ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকায় ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান আলম নগরী ও জেলাকে ভাগ করে পৃথকভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর খুনে সরাসরি জড়িত ছিলেন ডেভিড ইমন। এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট আনিস ও মোহাম্মদ হাসান নামে দুইজনকে ব্রাশফায়ারে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই হত্যাকাণ্ডে ডেভিড ইমন জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ সোমবার চন্দনপুরায় ডিডিএন নামে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলায় অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসী অংশ নেন। তাদের সবার বয়স ২০ থেকে ৩০ বছর। সবাই সাজ্জাদ আলী খান গ্রুপের সদস্য। মুখোশ পরে থাকায় অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে ডেভিড ইমনসহ তার গ্রুপের সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
চন্দনপুরা এলাকায় দুপুরে ডিজিটাল ডট নেটে (ডিডিএন) হামলা এবং ৩৫ লাখ টাকার লুটের ঘটনার পর একই দিন সন্ধ্যায় জিইসির মোড়ে অবস্থিত আরেকটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করেন ডেভিড ইমন।
‘নেট প্লাস’ ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নেওয়াজ মোরশেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে আমাকে ফোনে কল দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। আমাকে ফোনে কল করে বলে, দেখছেন তো ডিডিএনকে কী অবস্থা করেছি। টাকা না দিলে আপনারও এমন পরিস্থিতি হবে। সন্ত্রাসীদের এমন আচরণে এখন আতঙ্কে রয়েছি।’
ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে গত এক মাসে দেড় কোটি চাঁদা আদায় করেছে ডেভিড ইমন বাহিনী। বিশেষ করে অক্সিজেন, মুরাদপুর, জিইসির মোড়, বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা ও পাঁচলাইশ এলাকা থেকে প্রতিটি কোম্পানির মালিককে ফোনে কল করে হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে কোনো ধরনের প্রতিবাদ ছাড়াই সন্ত্রাসীদের হাতে চাঁদা দিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন : ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইএসপিএবি চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজিব শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ডিডিএন কার্যালয়ে চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; বরং সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইএসপি মালিক ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি, টেলিফোনে হুমকি, চাপ সৃষ্টি এবং দাবি পূরণ না হলে হামলা বা হয়রানির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ পরিস্থিতি আইএসপি শিল্পের জন্য গভীর নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে। ডেভিড ইমনসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
তথ্য সূত্র: যুগান্তর
সম্পাদক: মোঃ হাসান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: ফারহান, নির্বাহী সম্পাদক: মুরাদ হোসেন, বার্তা সম্পাদক: রাসেল গাজী, মোবাইল: 01911110129, 01902279843
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয: ২১, নাছিম চেম্বার, ৩য় তলা, দিলকুশা, মতিঝিল, ঢাকা।
© ২০২৫ জনমুক্তি বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত