স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ঢাকা মেট্রো-৩ (উত্তরা দিয়াবাড়ী) কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ডিডি) সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, অর্থ পাচার এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগপত্র এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।অভিযোগে বলা হয়েছে, বিআরটিএর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন সুব্রত দেবনাথ। পাশাপাশি সেই অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচারের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।চট্টগ্রামে সিএনজি প্রতিস্থাপন প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগঅভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিআরটিএতে সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে কর্মরত থাকার সময় প্রায় ২ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রতিস্থাপন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়।অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের বিসমিল্লাহ মটরস, মেসার্স রাজামিয়া অ্যান্ড সন্স, জাফর অ্যান্ড কোং, শাহজালাল মটরস, এসবি কর্পোরেশন, ইমাম ডেইন্টিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, তাইফ মটরস, শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজ এবং নোয়াখালীর আরকে অটোমোবাইল ও তাসনিম ট্রেডার্সসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে গ্রাহকদের নির্দিষ্ট শোরুমের মাধ্যমে সেবা নিতে বাধ্য করা হতো।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিস্থাপনযোগ্য প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা করে আদায় করা হয়। এভাবে মোট প্রায় ৬০ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।পরে সিএনজি মালিকদের আন্দোলন ও প্রতিবাদের মুখে তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২-এ বদলি করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।বদলির আদেশ বাতিলের অভিযোগঅভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২-এ কর্মরত অবস্থায়ও বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে তাকে রাজশাহীতে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেই বদলি আদেশ বাতিল করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এছাড়া বিগত রাজনৈতিক সরকারের সময় তিনি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল ছিলেন বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।অর্থ পাচার ও সম্পদের অনুসন্ধানের দাবিলিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ ভারতে পাচার করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন স্থানে তার নামে ও বেনামে বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সম্পদের অস্তিত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট থাকার অভিযোগও করা হয়েছে।তবে এসব সম্পদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।উত্তরা দিয়াবাড়ী কার্যালয়ে সক্রিয় দালাল চক্রের অভিযোগবর্তমানে ঢাকা মেট্রো-৩ (উত্তরা দিয়াবাড়ী) কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রশ্রয়ে একটি দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।তাদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থ প্রদান না করলে বিভিন্ন ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব করা হচ্ছে এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।এছাড়া সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।তদন্ত ও শাস্তির দাবিভুক্তভোগী ও অভিযোগকারীরা সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।বক্তব্য মেলেনিউত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ঢাকা মেট্রো-৩ (উত্তরা দিয়াবাড়ী) কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুব্রত দেবনাথের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানো হলেও সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন