ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন দলীয় অবস্থানের সমালোচনা করে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। জুলাইয়ের অঙ্গীকার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রশ্নে দলটির অবস্থানের সঙ্গে নিজের আদর্শগত অসামঞ্জস্যের কথা উল্লেখ করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শেখ শোভন আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের কথা জানান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংগঠনের ভেতরে তিনি ছাত্রদল নেতা ফজলুর রহমান খোকনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।ফেসবুক পোস্টে শেখ শোভন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, দেশ একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করছে, যেখানে অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের চেতনা ক্রমশ উপেক্ষিত হচ্ছে এবং শহীদদের আত্মত্যাগ যথাযথ মর্যাদা পাচ্ছে না। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের দ্বন্দ্বে জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব হলেও একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এখনো পূর্ণতা পায়নি। এই বাস্তবতায় বিএনপির নীতি ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজের আদর্শগত অবস্থানের অমিল থাকায় তিনি দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।শেখ শোভনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায়বিচার ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপসের সুযোগ নেই। ভবিষ্যতেও দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে প্রয়োজন হলে আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থান জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সামিল। একই সঙ্গে জুলাইয়ের অঙ্গীকারের বিরোধিতা করে দলটি একটি প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থান নিয়েছে, যা তাকে হতাশ করেছে।শেখ শোভন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মধ্য দিয়েও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটির অবস্থান জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে হওয়ায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মন্তব্য করুন