রাজধানীর শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনসহ তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জমসেদ আলম এ আদেশ দেন। রিমান্ডে নেওয়া অপর দুই আসামি হলেন এমবি স্বপন কাজী ও মো. শাওন হোসেন।পুলিশ জানায়, তাদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ছাব্বির আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী আজিজুল হক দিদার। অপরদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন জানালেও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।মামলার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলামের ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি’ (সিকেডি) হাসপাতালে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে মঈন উদ্দিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।গত ১১ এপ্রিল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলায় মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়।এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মঈন ও তার সহযোগীরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বাদীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ১০ এপ্রিল সকালে শ্যামলীর ৩ নম্বর সড়কে বাদীর বাসার সামনে গিয়ে দরজা খুলতে বলেন আসামিরা। দরজা খোলার পর তারা বাদীর স্ত্রীকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং টাকা না দিলে ক্ষতির হুমকি দেন।পরে পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে বাদী তার ছোট ভাইকে বাসায় আসতে বলেন। এ সময় মঈনসহ কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোক জড়ো করেন। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক নিয়ে তারা সিকেডি হাসপাতালের সামনে গিয়ে বিক্ষোভধর্মী অবস্থান নেন।মামলার এজাহারে বলা হয়, সেখানে তারা উচ্চস্বরে স্লোগান দেন, গালাগালি করেন এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালান। এমনকি হাসপাতালের মালিক ডা. কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও হুমকিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। এতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মঈনের আরও চার সহযোগী—মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, ফারুক হোসেন সুমন ও মো. লিটন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের আগেই চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত।পুলিশ বলছে, ঘটনার পেছনে জড়িত অন্যদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন