রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় স্ত্রী ও মেয়েকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ রেজাউল করিম। আর ঘরের কোণে কোণে মাকে খুঁজে বেড়ায় মাত্র দুই বছর চার মাস বয়সী ছোট্ট রাইসা।রেজাউল করিম বলেন, “রাইসা প্রায়ই আম্মুকে খুঁজতে থাকে। খুঁজতে খুঁজতে মাঝেমধ্যে কান্না করে। আবার কিছুক্ষণ পর নিজেই চুপ হয়ে যায়।” কথাগুলো বলতে গিয়ে তাঁর চোখে বারবার পানি চলে আসে।দুর্ঘটনায় রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২) এবং বড় মেয়ে রাফিয়া আক্তার (১২) নিহত হন। পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে এখন গভীর শোকে ডুবে আছে পুরো পরিবার।শুক্রবার (২৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামে রেজাউলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিহত স্ত্রী ও কন্যার জন্য কুলখানির আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বাড়িতে আত্মীয়স্বজনদের ভিড় জমেছে। উঠানে বসে স্বজনদের ঘিরে সেদিনের ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করছিলেন রেজাউল করিম।স্বজনেরা জানান, এক মুহূর্তেই একটি সুখী পরিবার ভেঙে পড়েছে। ছোট্ট রাইসা এখনও বুঝতে পারছে না, তার মা আর বোন আর কখনও ফিরে আসবে না। মাঝে মাঝেই সে মাকে খুঁজে কাঁদে—আর সেই দৃশ্য দেখলে উপস্থিত সবার চোখই ভিজে ওঠে।পদ্মায় বাসডুবির এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন