নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজবাড়ীরাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে ওপরে তোলে। এ সময় বাসের ভেতর থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বাসটি নদীতে পড়ার সময় স্থানীয়রা আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, উদ্ধার করা মরদেহগুলো গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।পরিচয় মিলেছে কয়েকজন যাত্রীরউদ্ধার হওয়া ও নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে বাসে ওঠা যাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং তাদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭) ও আয়েশা বিনতে গিয়াস (১৩)। গিয়াস উদ্দিন রিপন খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারটি ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টের কারখানায় কাজে ফিরছিলেন।এছাড়া খোকসা থেকে বাসে ওঠেন দেলোয়ার (৩০), তার স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী ছেলে ইসরাফিল। তাদের মধ্যে ইসরাফিল এখনও নিখোঁজ রয়েছে।ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং তাদের দুই সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশান (৭ মাস) ওই বাসে ছিলেন। নুরুজ্জামান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এদের মধ্যে স্ত্রী আয়েশা আক্তার ও শিশু আরশান এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। একইভাবে গিয়াস উদ্দিনের কন্যা আয়েশাও উদ্ধার হয়নি।উদ্ধার অভিযান অব্যাহতজানা গেছে, সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে এখনও অভিযান চলছে। এদিকে স্বজনদের আহাজারিতে ফেরিঘাট এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয়ে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে কাজ করছে। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন