
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে আমরা দল থেকে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কেন তাহলে বসে আছে, তাদের চালায় কে? বিএনপি তো চালায় না। চালাচ্ছে সরকার। তাহলে সরকার কেন তাদের (অন্যায়কারী) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না? সেটি দলেরই হোক বা অন্য কোনো লোকই হোক।
কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না? দলের সঙ্গে অন্যায়কারীর কী সম্পর্ক, তাতে কিচ্ছু যায়-আসে না, আইনের দৃষ্টিতে তার বিচার হতে হবে।’
অন্তর্বর্তী সরকার অন্যায়কারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা কি তবে ধরে নেব, যারা বিভিন্নভাবে মব সৃষ্টি করে একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে, সেখানে সরকারের কোনো প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় আছে, প্রশাসনের কোনো প্রশ্রয় আছে।’
গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের অমর শহীদদের স্মরণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘পুরান ঢাকায় যে ঘটনা ঘটেছে, যে ছেলেটি মারা গেছে, তার সঙ্গে হয়তো যুবদলের সম্পর্ক আছে। কিন্তু যে খুন করেছে, তাকে অন্য জায়গা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে ধরা হচ্ছে না, ধরা হলো অন্যদের।
তাকে এখন পর্যন্ত বোধ হয় আসামিও করা হয়নি। কেন হয়নি? কেন তাকে ধরা হচ্ছে না? আমাদের পক্ষ থেকে তো একবারও বলা হয়নি যে অমুককে ধরা যাবে না, তমুককে ধরা যাবে না। একবারও তো এ কথা বলা হয়নি। আমরা বারবার বলেছি, অন্যায়কারীর আইনের দৃষ্টিতে বিচার হবে। দলের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক, তাতে কিচ্ছু যায়-আসে না।
তাকে দল কোনো রকম প্রশ্রয় দেবে না, কেউ যদি কোনো অন্যায় করে। তাহলে প্রশাসন তাকে কেন ধরছে না? দলীয় অবস্থান থেকে আমাদের যা যা করা প্রয়োজন, আমরা যেটা জেনেছি, তদন্তের পর যাদের সম্পর্কে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, দল থেকে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’
তারেক রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের স্পষ্টভাবে দেখা গেল। কিন্তু এখনো তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এটা কি সরকারের নীরব সমর্থন অথবা অন্তর্বর্তী সরকারের পরোক্ষ প্রশ্রয়ের ইঙ্গিত? তাহলে কি ধরে নেওয়া উচিত, যারা দেশে গণপিটুনি, সহিংসতা ও অস্থিরতা তৈরি করতে চায়, তারা সরকার বা প্রশাসনের কোনো অংশের নীরব সমর্থন পাচ্ছে বা লালন-পালন করা হচ্ছে? সারা দেশের মানুষ এখন প্রশ্ন করছে, কেন সরকার নীরব রয়েছে? কেন যাদের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না? বিভিন্ন স্থানে নানা ঘটনা ঘটছে। আমরা খুব নিবিড়ভাবে নজর রাখছি, কারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে।’
তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, যদি বিএনপি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে যারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে শহীদ হয়েছে, তাদের জন্য সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করাই হবে আমাদের অঙ্গীকার। প্রতিটি হত্যার বিচার আমরা করব।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়নি।’
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল প্রমুখ।
মন্তব্য করুন